loading...

৯১ পেরোলেও মজিদের ভাগ্যে জুটেনি কার্ড, ভিক্ষায় চলে তার জীবিকা

0

ওমর ফারুক সুমন, হালুয়াঘাট থেকেঃ

ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন ৯১ বৎসর বয়সী আঃ মজিদ। তার জন্ম জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ি ১৯২৭ সালের ৯ জুলাই। ৯১ পেরিয়ে ৯২ এ পৌছলেও এখনো পাইনি একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড।

অবশেষে জীবিকার তাড়নায় ভিক্ষার মতো নিন্মমানের একটি পেশাকে বেঁছে নিয়েছেন আঃ মজিদ। মজিদের বাড়ি ২নং জুগলী ইউনিয়নের রনকুটরা গুচ্ছ গ্রামের পাশেই। রবিবারদিন কথা হয় আঃ মজিদের সাথে।

তিনি বলেন, ভিক্ষাইতো করুন লাগে! জায়গা জমি নাই। পুলাপাইনেও দেহেনা। আগেতো ভিক্ষা করছি দূরে গিয়ে। চাউল দুইলা বেশি পাইছি। এহন তাও যাইবার পাইনা। খালি ছাতুগাঁও আর জিগাতলা ঘুরি। ঠেংগে কুলাইনা।

তারপরেও যাওন লাগে। ভাততো খাওন লাগবো। বেডি দু’একটা গরু বাগি (বর্গা) রাহে কিছু টেহা মেলাদিন পর পর পায়। চলেনা তা দিয়া। কাডের (কার্ড) লেইগা চেয়ারম্যানের কাছে গেছিলাম, দেয়নাই আমারে।

পরে আর যায়নাই। মজিদের স্ত্রী আনোয়ারা বলেন, আমি মাইনসের কাজ কাম করি। বেডাও মাইগ্যা খায়। কষ্ট করি ভাতে। আজ একটা দিন গেছে হুডা ঢেউরি (ঢেঁড়স) ভাঁজি দিয়া ভাত খাইছি। ঐ বাড়ি থেইকা একটু দুধ দিছিলো, এগুলা দিয়াই খাইছিলাম।

আমার নেহান কষ্ট বুঝি কোন মনিসিও (মানুষ) করেনা। এইযে একটা রমজান আইছে, কেউ কিছু দেয়না। চাইয়া মাইগ্যা একসের আধসের চাউল (চাল) আনি। খাই! প্রতিবেশী হারুন বলেন, এর কোন পুত থাইকাও নাই।

এই বয়সেও ভিক্ষা করে! দু’দিন পরেইতো ঘরে পইরা যাবোগা। ওর একটা বয়স্ক ভাতার কার্ড অইলে ভালো অই। এ বিষয়ে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মাহফুজ ইবনে আইয়ুব কে অবগত করলে তিনি একটি কার্ডের ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বস্থ করেছেন। স্থানীয় চেয়ারম্যান কামরুল হাসান তিনিও কার্ডের বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন এমনটিই জানালেন।

loading...