loading...

তিন উপজেলায় ৩ দিনে প্রতিপক্ষের হামলায় এক ছাত্রলীগ সভাপতিসহ ১৩ জন আহত

0
শেখ আমিনুর হোসেন,সাতক্ষীরা ব্যুরো চীফঃ
সাতক্ষীরার কলারোয়া দলীয় কোন্দলে,শ্যামনগর  ও তালায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় গত তিন দিনে ১৪ ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে স্হানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তিকৃত ১৪ জনের মধ্যে ৩ জনের অবস্হা আশংখাজনক। এদের মধ্যে শ্যামনগরের দুইজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর একজন গুরুতর আহত নারিকে তালা হাসপাতালে ভর্তি আছে।
ঘটনা গুলি গত তিন দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘটেছে।স্হানীয় ও আহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শ্যামনগর উপজেলার পশ্চিম পাতাখীল গ্রামের আলহাজ্জ্ব আবুল কাশেমের পুত্র আহসান উল্লাহ গংদের ৪ বিঘা জমি প্রতিপক্ষ একই গ্রামের স্বন্ত্রাসী আমানুল্যাহ গং জোর পূর্বক দখল করে রাখে।
শনিবার সকাল ৬টায় দিকে আহসান উল্লাহ গং উক্ত জমি দখল করতে গেলে সন্ত্রাসী আমানুল্যাহ গং মৃত মফিজুদ্দীনের পুত্র আবু বক্কার, আমজেদ গাজীর পুত্র বাবলু ও তাজমিনুর সহ ২০-২৫জন রামদা ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে বেধড়ক কুপিয়ে আহসান উল্লাহ, ভাই মহিববুল্লাহ, শহিদুল্যাহ ও রজব আলী, নুরুল গাজীর পুত্র আবু সিদ্দিক, ভাই আবু বক্কার, আলহাজ্জ্ব আব্দুল বারীর পুত্র জাহাঙ্গীর কবীর, ভাই সাহানুর, মৃত মাহাতাবের পুত্র শাহাবুদ্দিন গুরুত্বর আহত করে। আহতদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদেরকে উদ্ধার করে শ্যামনগর হাসপাতালে ভর্তি করে। আহতদের হাত, পা ও মাথা ধারালো অস্ত্রের কোপ মেরে আহত করা হয়েছে। আবু সিদ্দিক ও মহিবুল্যাহ এর অবস্থা আশংখা জনক হওয়ায় তাদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
অপরদিকে একইদিনে দলীয় পদ পত্যাশী গ্রুপ কর্তৃক কলারোয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ ইমরান হোসেনসহ তুরুনলীগের এক নেতার উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় ইমরান হোসেন বাদি হয়ে কলারোয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে কলারোয়া উপজেলা ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশী মো. আবু সাঈদ, শেখ মারুফ আহমেদ জনি ও শাকিল খান জজকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার বিকালে কলারোয়া কাছারী মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে মারাত্মক আহত হয়ে কলারোয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান ও কলারোয়া উপজেলা তরুণলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল হোসেন।
আহত শেখ ইমরান হোসেন জানান, শুক্রবার রাতে জেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে হঠাৎ আমাদেরকে ফোনে জানানো হয় শনিবার উপজেলা ছাত্রলীগের বর্ধিত সভা করতে হবে। সে মোতাবেক আমরা শনিবার বিকালে কলারোয়া কাছারী মসজিদ এলাকায় বর্ধিত সভার আয়োজন করি।
সভায় আমি সভাপতির বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বলি যে, ভবিষ্যতে কলারােয়া উপজেলা ছাত্রলীগের যে কমিটি হবে সেখানে যেন কোনভাবে কোন মাদকাসক্তকে স্থান দেয়া না হয়। জননেত্রী শেখ হাসিনার সারাদেশের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন।
সুতরাং, ছাত্রলীগও যেন বিষয়টি খেয়াল রাখে। কোন মাদকাসক্ত দিয়ে ছাত্রলীগের কমিটি করা হলে কলারোয়ার ছাত্রলীগ তা মেনে নেবে না। আমার এ বক্তব্যে পদ প্রত্যাশী তিন চিহ্নিত মাদকাসক্ত সাঈদ, জনি ও শাকিল অসন্তুষ্ট হয়ে থাকবে।
আমরা শুনেছি এরা টাকা-পয়সা বিনিময়ে ছাত্রলীগের মত ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের নেতৃত্ব কেনার চেষ্টা করছে। এরাই পরবর্তীতে সংঘবদ্ধ হয়ে আমার উপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে।
এ দিকে শুত্রুবার দুপুরে তালার এক পল্লীতে জমিজমা সংত্রুান্তে প্রতিপক্ষের হামলায় এক নারীসহ ৩ ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছে। আহত তিনজনেরা হলেন, উপজেলার জাতপুর গ্রামের মতিয়ার বিশ্বাসের কন্যা মুক্তা খাতুন (২৬),তার পিতা মতিয়ার বিশ্বাস ও ভাই মনিরুজ্জামান।
এর মধ্য প্রতিপক্ষরা মুক্তা খাতুনকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। শুক্রবার দুপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে জাতপুর গ্রামে প্রতিবেশী আমজাদ হোসেন বিশ্বাস গং উক্ত হামলায় চালায় বলে জানা গেছে।
বর্তমানে গুরুতর আহত মুক্তা বেগম তালা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। তালা থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী রাসেল শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
আহত মুক্তা খাতুনের পিতা মতিয়ার বিশ্বাস জানান, তাদের পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ভিটে বাড়ির জমি শুক্রবার দুপরে আকষ্মিক জোর দখলের চেষ্টা চালায় আমজাদ হোসেন বিশ্বাস ও তার স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগমসহ একদল দূর্বৃত্ত।
এসময় বাঁধা দিলে তারা লোহার রড, হাতুড়ি, ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে। হামলায় মতিয়ার বিশ্বাসসহ তাঁর ছেলে মনিরুজ্জামানকে পিটিয়ে আহত করে।
এছাড়া মতিয়ার বিশ্বাসের মেয়ে মুক্তা খাতুনকে কুপিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করে তারা। গুরুতর আহত মুক্তা খাতুন ও তার ভাই মনিরুজ্জামান তালা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
এ ঘাটনায় তালা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তালা থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী রাসেল বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে,বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
loading...
error: Content is protected !!