loading...

হালুয়াঘাটে ৯৭ বৎসর বয়সী সূর্যবানূর বোবা কান্না, বিপর্যস্ত অমানবিক জীবন সূর্যবানুর।

0

ওমর ফারুক সুমন, হালুয়াঘাট থেকেঃ

বয়স একশ ছোঁই ছোঁই। হয়নি বয়স্ক ভাতার কার্ড। থাকেন সরকারি খাঁস জমিতে। কোন ছেলে সন্তান নেই। একটি মাত্র মেয়ে তাও আবার বিধবা। সূর্যবানুর মুখ দিয়ে কথা বের হয়না ঠিকমতো। কোন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে চোখের দিকে ফ্যাঁল ফ্যাঁল করে তাকিয়ে থাকে।

কোন বেলায় ভালো খাবার তার ভাগ্যে জুটেনা। অভাব অনটন তার নিত্যদিনের সঙ্গী। সূর্যবানুর চোখের কোনে ফুঁটে রয়েছে নির্মম অভাবের প্রতিচ্ছবি। শত বছরের কাছে এসেও জীবনটা প্রতি মুহুর্তে যুদ্ধ করতে হচ্ছে তার। চলতে অক্ষম। দুটি পা থেকেও শক্তিহীন।

শরীরের হাঁড় গুলো বাহির থেকে গণনা করা যায়। বয়সের ভারে নুঁইয়ে পড়েছে অনেকটা। কানেও শোনে কম। সমাজের অবহেলা আর প্রবঞ্চনার মাঝে কোনরকমে বেঁচে রয়েছে আমাদের চির অচেনা এই সূর্যবানু।

এ কোন কাল্পনিক গল্প নয়। জীবন্ত নির্মমতা। সূর্যবানু বসবাস করেন ২নং জুগলী ইউনিয়নের রনকুটরা গুচ্ছ গ্রামে। রবিবার সকালে কথা হয় সূর্যবানু ও তার মেয়ে তোতাবানুর সাথে। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সূর্যবানু ৭/৮ বছর যাবৎ ঘরে পড়ে রয়েছেন। একটি মাত্র মেয়ে।

মেয়েটাই তার শেষ ভরসা। তোতাবানু বলেন, আমি মাইনসের বাড়িতে ধান দুনের কাম করি। টুকটাক কাম কইরা একসের আধসের চাইল মাইনসে দিলে সেগুলো দিয়াই আমার মারে খাওয়াই। আমিও খাই।

সূর্যবানুকে জিজ্ঞেস করলে আমতা আমতা করে বলেন, আমার কেউ নাই বাব! এমকমাত্র মেয়েডাই দেহে আমারে। কি দিয়া খাইছেন জিজ্ঞেস করলে বলেন, রোযা থাকতে খুবই কষ্ট হয়। আইজ ডাইল (ডাল) দিয়া খাইছি।

তিনি বলেন, আমারে কেউ একটা বয়স্ক ভাতার কার্ড দিলোনা। আইন্যে যদি দয়া কইরা একটা কার্ড দিতাইত তাইলে আল্লার কাছে দু’হাত তুইলা দোয়া করতাম। এভাবেই প্রতিবেদকের কাছে শেষ মিনতিটুকু জানালেন সূর্যবানু।

loading...