loading...

জমি আছে ঘর নাই বদলগাছীতে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের ঘর পেয়ে খুশি উপকারভোগীরা

0

প্রতিনিধি বদলগাছী (নওগাঁ) ঃ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ‘সবার জন্য বাসস্থান’ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘জমি আছে ঘর নাই তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ’ আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ঘর পেয়ে খুশি নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার উপকারভোগীরা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সুত্রে জানাযায়, গত বছরের ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে বদলগাছী উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ১০১ টি পরিবারকে আধাপাঁকা টিনের বাড়ী তৈরী করে দেওয়ার বরাদ্ধ পেয়েছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ‘সবার জন্য বাসস্থান’ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘জমি আছে, ঘর নাই তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ’ আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় হত-দরিদ্রদের এসব আধাপাঁকা বাড়ী তৈরী করে দেওয়া হয়েছে।

এ প্রকল্পের আওতায় এ উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নে ৯৬ টি, আধাইপুর ইউনিয়নে ১টি , বদলগাছী সদর ইউনিয়নে ৩টি ও বালুভরা ইউনিয়নে ১টি ঘর তৈরী করার বরাদ্ধ এসেছিল। প্রতিটি ঘর ও টয়লেটের বরাদ্ধ ধরাছিল ১ লাখ টাকা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে গত তিন মাস থেকে এসব ঘর নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে। ইতি মধ্যে বেশীরভাগ ঘরের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে।

সরেজমিনে ঐ সব এলাকায় গিয়ে দেখাযায়, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া চার শতাংশের জমির মালিক ৮০ বছরের বৃদ্ধ শহিফ উদ্দিন। আগে তার এই এক টুকরো জমির উপর পাঠ কাঠি (সিনট), ছনের বেড়া ও টিনের ছাউনির একটি ঘর ছিল।

আর এই একটি ঘরে ছয় সদস্যকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। ছেলে তার বউ ও দুই বাচ্চাকে নিয়ে বেড়ার ঘরে বসবাস করলেও দুই বৃদ্ধা থাকতেন ঘরের বাহিরের বারান্দায়।

শীতকালে ঠান্ডা আর বর্ষাতে পানির সাথে সংগ্রাম করে পার করেছেন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর। ছেলের আয়ে চলে তাদের সংসারের ছয় সদস্যের ভরন-পোষণ। আর পেশা বলতে কখনো কৃষি কাজ।

আবার কখনো ভ্যান চালানো। তাই অভাবি এই সংসারে কখনো নতুন করে একটি ঘর তৈরী করার স্বপ্ন তাদের কল্পনাতে আসেনি। যে স্বপ্ন কখনো মাথায় আসেনি, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্প আশয়ণ-২ থেকে পাওয়া তাদের আধাপাঁকা একটি টিনের বাড়ী হয়েছে।

সাথে একটি টয়লেটও। গত এক মাস থেকে সেই বাড়ীতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছেন তারা। শুধু মথুরাপুর ইউনিয়নের মাহমুদপুর গ্রামের বৃদ্ধ ছহিফ উদ্দিন একাই আধাপাঁকা টিনের বাড়ী শুধু পেয়েছেন তা কিন্তু নয়।

চক-গোপিনাথ গ্রামের শিরিন আক্তারও পেয়েছেন একটি ঘর তিনি বলেন, আমার স্বামী ছাগলের ব্যবসা করেন। তার একার আয়ে সংসার চালানো খুব কঠিন হতো। বাচ্চাদের নিয়ে বেড়ার ঘরে বসবাস করতাম।

সংসারে অভাবের কারনে নতুন একটি বাড়ি তৈরী করার কখনো কোন স্বপ্ন দেখতাম না । এখন সরকার থেকে বাড়িটি পাওয়ায় খুব সুবিধা হয়েছে। আল্লাহর রহমতে ও প্রধানমন্ত্রীর দয়ায় মাথা গোজার মতো একটা জায়গা পেয়েছি। তাই নিশ্চিন্তে এই ঘরে বাচ্চাদের নিয়ে বসবাস করছি।

এছাড়াও থুপশহর গ্রামের আনোয়ার, আবুবক্কর সিদ্দিক, রশিদা বেগম ও চকমথুর গ্রামের শিউলি , দরিয়াপুরের শাহিদা বেগম সহ ২০ থেকে ২৫ জনের সাথে কথা বললে তারা বলেন, সরকার থেকে আমরা একটি করে বাড়ি পাওয়ায় আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে।

নতুন করে একটি সন্দুর বাড়ি পাওয়ায় দীর্ঘদিনের দুঃখ-কষ্ট লাঘব হয়েছে। এখন খেয়ে না খেয়ে থাকলেও মাথা গোজার মতো একটা জায়গা হয়েছে। শেখের বেটিকে যে আমরা কি বলে যে ধন্যবাদ দিবো তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারচ্ছি না। আমরা দোওয়া করছি শেখের বেটিই যেন বারবার ক্ষমতায় আসে।

মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বলেন, হতদরিদ্রদের জন্য সুন্দর একটি পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আজ আমার ইউনিয়নের হতদরিদ্রদের প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘরে আজ মাথা গোজার ঠাঁই হয়েছে।

এসব হতদরিদ্ররা কখনো চিন্তাই করতে পারেনি আধাপাঁকা একটি নতুন ঘর করার, তারা এখন একটি নতুন ঘর পেয়ে সুখে শান্তিতে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষণ করে আরো বলেন, এ প্রকল্পের কাজ যেন অব্যহৃত থাকে। তবে ঘরের পাশাপাশি হতদরিদ্রদের জন্য পানির সরবরাহের ব্যবস্থা করলে তাদের জন্য আরো সুবিধা হবে বলে তিনি মনে করেন।

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও প্রকল্পের সভাপতি মাসুম আলী বেগ বলেন, যারা ঘরগুলো পেয়েছেন তারা একেবারে হতদরীদ্র। তারা এক সময় বেড়ার ঘরে জীবনযাপন করতেন।

এখন তারা অনেকটাই ভাল ভাবে থাকতে পারছেন। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ১০১টি ঘরের কাজ প্রায় ৯০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। ঘরের চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। হতদরিদ্রদের চাহিদা অনুযায়ী আরো বরাদ্ধের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে চিঠি দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বরাদ্ধ পাওয়া মাত্র আগামীতে উপজেলার অন্য ইউনিয়নগুলোতেও বরাদ্ধের তালিকা সাপেক্ষে হতদরিদ্রদের ঘর তৈরী করে দেওয়া হবে।

অপরদিকে উপজেলার অনান্য ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা তাদের ইউনিয়নের হতদরিদ্রদের কথা বিবেচনা করে তাদের ইউনিয়নেও বরাদ্ধ প্রদানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

loading...