loading...

হালুয়াঘাটে চক্ষু রোগীদের ভালোবাসায় সিক্ত সালমান ওমর রুবেল

0

ওমর ফারুক সুমন, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) থেকেঃ

গত ৭ বৎসরে হালুয়াঘাট-ধোবাউড়াসহ আশপাশের এলাকার প্রায় ২৯ হাজার চক্ষু রোগীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন ওমর ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান ওমর রুবেল।

সকলের দোয়া আর সহানুভূতি সালমান ওমরের জীবনে একমাত্র পাওয়া এই আদর্শেই বিশ্বাস করে চক্ষু ক্যাম্পের যাত্রা শুরু করেছিলেন গত ২০১২ সাল থেকে। আজ পর্যন্ত উক্ত সালমান ওমরের চক্ষু ক্যাম্প থেকে সেবা নেয়া তা ২৯ জাজারেরও অতিক্রম করেছে বলে জানা যায়।

এই দীর্ঘ সময়ে বিনামূল্যে এই চক্ষু ক্যাম্প থেকে চোখের ছানী অপারেশান করেছেন ৩২৮০ জন, চশমা বিতরণ করেছেন ১৯২৩ জন, সাধারন চক্ষু রোগী হিসেবে ঔষধ দিয়েছেন ৩৫০০ জন, প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন ২০ হাজার ১৩২ জনকে।

সুত্রমতে জানা যায়, প্রথম ক্যাম্পটি করেছিলেন ধারা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে। এরপর থেকে প্রতিবছরই হালুয়াঘাট, ধোবাউড়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিক ভাবে তা করে যাচ্ছেন।

জানা যায়, সালমানের এই চক্ষু ক্যাম্প থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে আসেন হালুয়াঘাট, ফুলপুর, ধোবাউড়া, ময়মনসিংহ, নালিতাবাড়ি, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বয়স্ক নারী ও পুরুষ। ময়মনসিংহের ডাক্তার কে জামান বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চক্ষু ডাক্তারগণ কর্তৃক পরিচালিত হয় এই চক্ষু সেবার কার্যক্রম।

নারী ও পুরুষেরা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থেকে বিনাময়ল্যে চক্ষু সেবা নিয়ে থাকে। কেউ ফিরে পায় চোখের জ্যোতি, কেউ পায় চশমা আর কেউ পায় ঔষধসহ প্রাথমিক চিকিৎসা। রোগীর ধরন অনুযায়ী সকলের মাঝখান থেকে গুরুতর রোগীকদেরকে বাছাই করে অপারেশানের জন্যে নিয়ে যাওয়া হয় চক্ষু হাসপাতালে।

সেখানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগন অপারেশানসহ যাবতীয় চিকিৎসা সুনিপূণভাবে করে থাকেন। আর সেই চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার বহন করে থাকেন সালমান ওমর রুবেল। সরেজমিনে কে জামান বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে ছানী অপারেশান করা রোগী নালিতাবাড়ির যোগানিয়া গ্রামের ফাতেমা খাতুন(৫৫) বলেন, আমরা লাখ লাখ খুশি।

আমার মা ছোট রাইখা মইরা গেছে। আমার কেউ নাই। কেউ আমারে খোঁজ নেয়না। কিন্তু এই সালমান আমার চক্ষু ভালো কইরা দিছে। হালুয়াঘাটের ইটাখলা গ্রামের সবিতা রানী পাল(৬০) বলেন, ভগবানের কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া, আমার দুইটা চোখ অপারেশান করে ভালো হয়েছে।

ভগবান উনার মঙ্গল করুক। তেমনিভাবে কৃষ্টপুরের জোসনা(৬০), বাউসার রাবেয়া(৬০), ফুলপুরের ছোট ছুনই গ্রামের নুরজাহান (৫৮) এরা বলেন, তারা বিনামূল্যে চোখের ছানী অপারেশান করেছেন। ভালো আছেন তারা। এদের মতো হাজার হাজার রোগী চক্ষু সেবা নিয়ে তারা উপকৃত হয়েছেন।

এই বিষয়ে সালমান ওমর রুবেলের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমার ছোটকাল থেকেই স্বপ্ন মানুষের চক্ষু সেবা করার। আমার বাবারও স্বপ্ন ছিলো তা। আমি যতদিন বেঁচে থাকবো তা করে যাবো।

তিনি বলেন, প্রতিটি ছানী অপারেশান করা রোগীর পেছনে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। এছাড়া চক্ষু ক্যাম্পের সকল ব্যয়ভার তার নিজস্ব তত্ত্বাবধানেই হয়ে থাকে।

তিনি বলেন এই বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসাপত্র,ওষুধ ও অপারেশন ব্যবস্থা করতে এক সপ্তাহ আগে এলাকায় প্রচার করা হয়। অতঃপর নারী-পুরুষ চোখের চিকিৎসা নিতে ক্যাম্পে উপস্থিত হয়ে একটি স্লিপ সংগ্রহ করেন। পরে সেখান থেকে বাছাই করে চোখের ছানি পড়ার রোগীদের অস্ত্রোপাচারের জন্য ময়মনসিংহের ডা.কে জামান বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এছাড়া প্রাথমিক ভাবে চোখের নানা সমস্যার জন্য রোগিদেরকে বিনামূল্যে ওষুধ ও চশমা প্রদান করা হয়। তাদের যাবতীয় চিকিৎসার ব্যায়ভার বহন করেন তিনি।

loading...