loading...

এবার হালুয়াঘাটের সেই নুরজাহান বিবির পাশে দাঁড়ালো শিক্ষক

0

ওমর ফারুক সুমন, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) থেকেঃ

“বাবা ঘরে কিছু নাই, হুদা করলা ভাঁজা দিয়া সেহরী খাইছি” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের জের ধরে হালুয়াঘাটের দর্শারপাড় গ্রামের ৯২ বৎসরের সেই অসহায় নুরজাহান বিবির পাশে এবার সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন সেন্ট মেরিজ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কাকলি রাকসাম।

তিনি শুক্রবার বিকেলে অসহায় নুরজাহানের বাড়িতে যান এবং তার হাতে নিত্য প্রয়োজনীয় বস্থ, দ্রব্যাদি ও খাদ্য সামগী তুলে দেন। এ সময় নুরজাহান মৃদু হাঁসিতে বলেন, “মা” আমার কার্ডটি কি হবেনা? আমার কার্ডটি কইরা দেইন।

বাঁচমু আর কয়দিন। আমি মরবার আগে একটু দেইখা যাইবার চাই। নুরজাহানের দাবী একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড। নুরজাহানের দুইটি ছেলে ছিলো। একজন অসুখে মারা যায়। আরেকজন জীবিত থাকলেও অসুস্থ্য হয়ে ঘরে পড়ে আছে।

একজন স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে সুরবানু তাকে খেয়ে না খেয়ে দেখাশোনা করেন। কোন বেলা খায় আবার কোনবেলা না খেয়েই চলে নুরজাহানের জীবন। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, এই বয়সেও সে একটি রোযা ভাঙ্গেনি।

কিছু জিজ্ঞেস করলে কথা বলতে গিয়ে অবাক দৃষ্টিতে ফ্যাঁলফ্যাঁল করে তাকিয়ে থাকে। এদিকে স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে সুরবানু কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, মারে লইয়া উপজেলা পরিষদে চার দিন গেছি।

কইছে ছাগল দিবো, কার্ড দিবো। মেম্বারে দুইদিন যাইবার কইছে। পরে গেছি। পরে হেরা কিছুই দেইনাই। নামই নিছেনা! ছাগল দিবো কেমনে? বইয়া থাইকা চইলা আইছি। কত গেলাম, পাত্তাই পাইনা! অনেক মানুষ ধরলাম কিছুই পাইলামনা। মাইনসে বয়স্ক ভাতা পায়! আমার মা পায়না।

জানা যায়, এই বয়সেও একটি রোযাও ভাঙ্গেনি নুরজাহান বিবি। তবে তার শরীর ভালো নেই। রোগ শোকে জর্জরিত। হয়তো একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড পেলে শান্তিতে মরতে পারতেন।

কিছুটা হলেও তার তৃষ্ণা মিটতো। আমরা কি পারিনা প্রায় শত বর্ষী এই নুরজাহান বিবির মুখে একটু হাঁসি ফুঁটাতে?

loading...