loading...

হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে নেত্রকোনার  শিশু স্মৃতি আক্তার

0

ডেস্ক রিপোর্টঃ 

কোন কাজে সামান্য ত্রুটি পেলেই লৌহদন্ড গরম করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিতেন গৃহকর্তী। পান থেকে চুন খসলেই গরম পানি আর তেলে ঝলসে দেওয়া হতো কোমলমতি শিশু স্মৃতি আক্তার (৭) এর দেহ। একদিন অনুমতি না নিয়ে স্যাম্পু ব্যবহার করায় মাথার চুল নেড়ে করে দেওয়াসহ অমানবিক নির্যাতনের পর স্মৃতির দুটি হাত ভেঙ্গে দেন পাষন্ড ঐ নারী। আবার কোন কোন সময় শিশুটির হাতের আঙ্গুল গুলো কাঠ দিয়ে থেঁতলে দিতেন।

নির্মমতার স্বীকার হতভাগ্য এই শিশুটি নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের উলুকান্দা গ্রামের দিন মুজুর সুলতান মিয়ার কন্যা। তার উপর এমন নির্যাতন চালানো হতো রাজধানীর একটি বাসায়। তবে স্মৃতির বাবা ও মা নির্যাতনকারী গৃহকর্তী বা তার পরিবারের কোন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানেন না। বুধবার বিকালে স্মৃতির মা জুলেখা খাতুন প্রতিবেদককে বলেন, পাশের কয়রা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ দুলাল মিয়ার স্ত্রী হাজেরা খাতুন প্রায় তিন মাস আগে স্মৃতিকে ঢাকায় একটি বাসায় ঐ পরিবারের বাচ্চার সাথে খেলাধুলা করার কথা বলে নিয়ে যায়। কিছুদিন পরে স্মৃতিকে একটি বাসায় কাজ করতে দিয়েছেন বলে জানান হাজেরা। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে স্মৃতির সঙ্গে কোন যোগাযোগ করতে পারেনি তার পরিবার। স্মৃতির ব্যাপারে তার পরিবার খোঁজ খবর জানতে চাইলে হাজেরা বলেন স্মৃতি যে বাসায় আছে ভাল আছে আনন্দে আছে।

গত ১৮ মে শুক্রবার রাতে আহত অবস্থায় স্মৃতিকে তার নিজ বাড়ীতে নিয়ে এসে পরিবারের কাছে তুলে দেন হাজেরা। সুস্থ্য-সবল শিশুর শরীরে এত ক্ষত চিহ্ন পুরা দাগ আর দুই হাতও বাঁকা কেন জানতে চাইলে হাজেরা কোন সদোত্তর না দিয়ে বরং ঝগড়ায় লিপ্ত হয়ে যায়। এ বিষয় নিয়ে বেশি বারাবারি করলে স্মৃতির পরিবারকে দেখে নেয়ার হুমকিও দেন তিনি। ফিরে আসার পর বাবা মায়ের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রতিদিন তার উপর নির্যাতনের বর্ণনা দেয় শিশুটি। স্মৃতির সমস্থ শরীর জুড়ে নির্যাতনের ক্ষত চিহ্ন! বয়সের চেয়ে এখন তার শারীরিক যন্ত্রণা ও দু:সহ স্মৃতির ওজনই বেশি। পায়ুপথ ও স্পর্শকাতর অঙ্গও রক্ষা পায়নি নির্মমতা থেকে! এ খবর পেয়ে উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা পল্টন আচার্য্য, সোহেল রানা, অমিত সরকার ও মানিক মির্জাসহ ১০/১২ কর্মী স্মৃতিকে বাড়ীতে এনে ২৩ মে বুধবার সকালে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ভর্তি করেণ।

স্মৃতি’র দাদা বয়োবৃদ্ধ রমজান আলী সহ স্থানীয় অনেকেই জানান, হাজেরা কাজ ও অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন গ্রাম থেকে নারী-শিশু নিয়ে যান। ঐ বিষয়ে হাজেরা খাতুনের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে ঐ শিশুটির বাবা হতদরিদ্র মোঃ সুলতান মিয়া বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অফিসার ইন-চার্জ(ওসি) একেএম মিজানুর রহমান বলেন অভিযোগ পেয়েছি কিন্তু ঘটনা ঘটেছে অন্য এলাকায়। আমরা হাজেরাকে গ্রেফতারের চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছি। হাজেরাকে গ্রেফতার করতে পারলেই নির্যাতনকারীর নাম ঠিকানা পাওয়া যাবে বলে আশা করি।

loading...
error: Content is protected !!