loading...

রমজানে ইবাদত ও জনসেবামূলক কাজে অধিক সম্পৃক্ত হওয়ার আহবান জানিয়েছেন আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী

0
মারুফ আল মাহমুদঃ 
সামাজিকভাবে রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় উৎসাহ ব্যঞ্জক বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ এবং রমজানে ঘন ঘন ইফতার ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের মাধ্যমে উলামা-মাশায়েখ ও সকল শ্রেণী-পেশার মুসলমানদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরো দৃঢ় করার পাশাপাশি বেহায়াপনা, নগ্নপনা ও বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিরোধসহ সকল প্রকার অনৈসলামিক কর্মকান্ডের ব্যাপারে সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলাম ঢাকা মহানগর সভাপতি আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী। তিনি বলেন, উলামায়ে কেরামকে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড, সেবামূলক কাজ ও দারিদ্র দূরিকরণে উদ্যোগী ভূমিকায় আরো বেশী সম্পৃক্ত হতে হবে। পাশাপাশি পবিত্র রমযানে অধিক হারে নামায আদায়, কুরআন তিলাওয়াত, যিকির-আযকার, দান-সদকাসহ ব্যাপকভাবে ইবাদত-বন্দেগী পালন এবং সকল প্রকার অন্যায়, অপরাধ ও গুনাহ থেকে দূরে থাকার দাওয়াত সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে, উদ্বুদ্ধ করতে হবে। গীবত তথা পরনিন্দা থেকে দূরে থাকতে হবে।
আজ (২২ মে) মঙ্গলবার সংবাদপত্রে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে দেশের উলামা-মাশায়েখ ও তৌহিদী জনতার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী আরো বলেন, রমজান মাসে দেশের প্রায় সকল ক্বওমী মাদ্রাসার শিক্ষা বিভাগ ছুটি থাকে। পবিত্র রমজানের এই সময়ে তরুণ আলেম ও মাদ্রাসা ছাত্রদেরকে দাওয়াতী কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোকজনসহ সর্বস্তরের মুসলমানদেরকে নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে ব্যাপক গণসংযোগে নেমে পড়তে হবে।
উলামা-মাশায়েখ ও দ্বীনদার বিত্তশালীগণ স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোগ নিয়ে গরীব-এতীম, শ্রমিক-মজদুর, ছাত্র, যুবক, ব্যবসায়ীদেরকে নিয়ে এলাকা ভিত্তিক ঘন ঘন ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে সমাজের এসব শ্রেণী-পেশার মুসলমানদেরকে একত্রিত করে তাদের সাথে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরো মজবুত করতে সচেষ্ট হবেন। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের দুঃখ-দুর্দশা, অভাব-অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শুনে সাধ্যমতো সহযোগিতার চেষ্টা করবেন এবং সহমর্মিতা প্রকাশ করে তাদেরকে সাহস যোগাবেন। এর ফলে উলামায়ে কেরাম, ইসলামী নেতৃবৃন্দ ও তরুণ আলেমদের সাথে দেশের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ও জনসম্পৃক্ততা আরো মজবুত ও জোরদার হবে।
এতে করে মাঠ পর্যায়ে ইসলাম এবং দেশ, জাতি ও শান্তির পক্ষে কাজ করায় যেমন গতি আসবে, তেমনি ইসলাম, দেশ ও জাতির যে কোন আপদকালীন সময়ে সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়াও সহজ হবে।
পাশাপাশি উলামা-মাশায়েখদের সাথে সর্বস্তরের মুসলমানদের সামাজিক সম্পর্ক আরো মজবুত হবে। আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, দেশী-বিদেশী অর্থনৈতিক লুটেরা ও রাজনৈতি আগ্রাসী শক্তি বিভন্ন পর্যায় থেকে উলামায়ে কেরাম ও ইসলামী নেতৃবৃন্দকে কোণঠাঁসা করার চেষ্টা বিরামহীন গতিতে চলাচ্ছে। তারা শিক্ষা, সংস্কৃতিসহ জীবনাচারের বিভিন্ন পর্যায়ে নগ্নপনা ও বেহায়াপনামূলক বিভিন্ন কালচার চালু করে দেশে মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও ইসলামী চেতনা মুছে ফেলে নাস্তিকতা ও ভোগবাদিতা প্রতিষ্ঠার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। কারণ, তাদের অসৎ উদ্দেশ্য সিদ্ধির পথে ইসলামের ইনসাফ ও ভ্রাতৃত্ববোধকে তারা বড় প্রতিবন্ধক মনে করছে। যে কারণে তারা আমাদের দেশের সুন্দর সামাজিক বন্ধন ও পারিবারিক ব্যবস্থাকে ভেঙ্গে ফেলতে নানা পর্যায়ে ষড়যন্ত্র, ভোগবাদিতা ও বেহায়াপনার বিস্তার ঘটাতে চাচ্ছে। ৯২ ভাগ মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত দেশ হওয়া সত্ত্বেও ধর্মীয় কাজে মুসলমানদেরকে নানাভাবে হেনস্থা ও হয়রানির শিকার হতে হয়।
আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, একদিকে প্রকাশ্যে ও বিভিন্ন কৌশলে তরুণ ও ভবিষ্যত প্রজন্মকে ইসলামী চেতনাহীন রূপে গড়ে তোলার সব আয়োজন চলছে, অন্যদিকে উলামা-মাশায়েখ ও দ্বীনদার মুসলমানদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হয়রানীমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সমাজিকভাবে উলামায়ে কেরামকে বিচ্ছিন্ন বা কোণঠাঁসা করার নানা ষড়যন্ত্র এখন আর গোপন বিষয় নয়। শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ইসলামকে শুধু মুছে দেয়ার চেষ্টা চলছে না, বরং ধাপে ধাপে ইসলামের প্রতি বৈরি শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এমন কঠিন পরিস্থিতিতে উলামা-মাশায়েখ ও তরুণ আলেমদেরকে সাধারণ মুসলমানদের আরো কাছাকাছি যেতে হবে। সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পর্ক আরো দৃঢ় করতে হবে। আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী আরো বলেন, দেশের উলামা মাশায়েখগণ আল্লাহ-রাসূল, কুরআন-হাদীস ও ইসলামের মৌলিক বিধানের মর্যাদা রক্ষায় যেমন সোচ্চার থাকবেন, তেমনি দেশ, সমাজ ও গণমানুষের স্বার্থ নিয়েও আলেম সমাজ ও ইসলামী রাজনৈতিক কর্মীদেরকে কাজ করতে হবে। মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব, দরিদ্রদূরিকরণ ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে উলামায়ে কেরামকে আরো বেশী সম্পৃক্ত হতে হবে। এতে করে দেশের জনগণ আলেমদেরকে ঈমান-আক্বিদার হেফাজতের পাশাপাশি আদর্শ দেশ ও সমাজ গঠনেও যোগ্য প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে সাদরে গ্রহণ করে নিবেন। তিনি বলেন, মুসলমানদের ভ্রাতৃবন্ধন মজবুত এবং ঈমান-আক্বীদা ভিত্তিক ঐক্য অটূট থাকলে, ইসলাম বিদ্বেষী ও দেশের স্বার্থবিরোধীরা দৃশ্যতঃ যত আস্ফালন ও ষড়যন্ত্রই করুক, কখনো বিজয়ী হতে পারবে না। কারণ, মুসলমানগণ সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের সন্তুষ্টি এবং পরকালীন জীবনের সফলতাকে লক্ষ্য স্থির করেই দুনিয়াবী জীবন পরিচালনা করে থাকেন। বিবৃতিতে জমিয়ত মহাসচিব আরো বলেন, রমজানের ইফতার মাহফিলে মতিঝিলের শাপলা চত্বরের শহীদগণের মাগফিরাতের জন্য দোয়া করবেন। তাঁদের অতুলনীয় আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজ নাস্তিক্যবাদি শক্তি চরমভাবে পর্যুদস্ত হতে চলেছে। উলামায়ে কেরাম ও মুসলমানদের রক্ত কখনো বৃথা যেতে পারে না।
ইতিহাস এর সাক্ষী। তিনি বলেন, উলামায়ে কেরামের মধ্যে পারস্পরিক ছোটখাট মতভেদ থাকলে ঈমান-আক্বীদার স্বার্থে আপোসের মাধ্যমে ঘরোয়াভাবে সমাধা করে ঐক্যকে মজবুত সকলের সচেষ্ট হওয়াটা এই কঠিন সময়ে খুবই জরুরী। ব্যক্তিগত ভুলবুঝাবুঝিকে কখনোই সভা-সেমিনার বা সম্মেলনের আলোচনা-বক্তব্যে নিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। সর্বাবস্থায় নিজেদের মধ্যে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা তৈরী করে ঈমান-আক্বীদা ও দেশ-জাতির স্বার্থে কাজ করে যেতে হবে।
loading...
error: Content is protected !!