loading...

ভালুকায় কমে গেছে বাড়িতে হাতে মুড়ি ভাজার রেওয়াজ

0

স্টাফ রিপোর্টারঃ 

পবিত্র রমজান মাস এলেই ভালুকায় আর আগের মতো বাড়ি বাড়ি মুড়ি ভাজার ধুম পড়ে না। নানা কারণে এখন বাড়িতে এসব ঝামেলা করতে চান না অনেকে বাজার থেকে কেনা মুড়িতেই ইফতার করা সহজ।। গত কয়েকদিন দিন উপজেলার পূর্ব ভালুকা, মিরকা, মেদিলা, খারুয়ালীসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তাঁরাই এসব কথা জানান।

পূর্ব ভালুকা কোনাপাড়ার বাসিন্দা সুলতানা বেগম (৪০) বলেন, আগে রোজা শুরু হওয়ার মাস খানেক আগে থেকেই ইফতারির অন্যতম উপাদান মুড়ি ভাজার প্রস্তুতি শুরু করতে হতো। মুড়ি ভাজার জন্য আলাদা করে রাখা ধান সিদ্ধ করে শুকিয়ে ঢেঁকিতে ছেঁটে চাল তৈরি করে রাখা হতো। তারপর বাড়ির বউ-ঝি মিলে সারা দিন ধরে চলত শুধু মুড়ি ভাজা। সবাই মিলে মুড়ি ভাজা আর ইফতারের সময় সেই মুড়ি খাওয়ার আনন্দই ছিল আলাদা। আরেক বাসিন্দা ফাতেমা আক্তার বলেন, মুড়ি ভাজা খুব কষ্টের বলে এখনকার বউ-ঝিরা আর ওই ঝামেলায় যেতে চান না। এখন বাজারের মুড়িই ভরসা। পূর্ব ভালুকা এলাকার আব্দুল মজিদ মাস্টার বলেন, এক কেজি মুড়ির চাল বাজার থেকে ৫০-৬০ টাকায় কিনতে হয়। এরপর আছে খড়ি-শোলা আর মুড়ি ভাজার লোকের মজুরি।

এত ঝামেলা না করে বাজার থেকে কেনা মুড়িতেই ইফতার করা সহজ। তাছারা এখনকার বেশির ভাগ বউ-ঝি মুড়ি ভাজতে পারেন না। ফলে মুড়ি ভাজায় দক্ষ মানুষ ডাকতে হয়। এলাকার প্রবীণ রাহেলা বেগম বলেন, কিছুদিন পর আর মুড়ি ভাজার লোকও খুঁজে পাওয়া যাবে না। কষ্টকর কাজ বলে কেউ এসব শিখতে চান না। ব্যস্ততাসহ বিভিন্ন কারণে বাঙালির বিভিন্ন ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

loading...
error: Content is protected !!