loading...

এগিয়ে চলেছে চা বিক্রেতা রফিকের সোনামণি পাঠশালা

0

তারেক অাহম্মেদ-চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যুরো চীফ:

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র বিশ্বরোড মোড় সংলগ্ন শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের সামনের ক্ষুদ্র চা বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম রফিক। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দুরে রফিকের নিজ গ্রাম ঠাকুরপালশায় তার নিজ উদ্দ্যেগে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ২০১৩ইং খ্রীষ্টাব্দে। প্রত্যন্ত গ্রামের সকল শিশুদের মাঝে শিক্ষার অালো ছড়াতে ও মেধার বিকাশ ঘটাতে নিজের কিছু জমানো টাকা ও বাড়ির পোষা একটি গরু বিক্রির টাকা দিয়ে শুরু করা হয় বিদ্যালয়টি। অার বিদ্যালয়টির নাম দেওয়া হয় “সোনামণি পাঠশালা”। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলাধীন ৩নং ঝিলিম ইউনিয়নের অন্তর্গত ৯নং ওয়ার্ড কালুপুর,পুলপাড়া, গুচ্ছগ্রাম ও ঠাকুরপালশা এই চারটি গ্রাম মিলিয়ে বসবাসকারী জনসংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। যদিও কালুপুরে একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে কিন্তু অন্য তিনটি গ্রামের দুরত্ব কালুপুর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার হওয়ায় এই তিন গ্রামের বিদ্যালয়মূখী শিশুরা পড়ালেখার সুযোগ পেতনা। ফলে শিক্ষার অালো ভুক্তভোগী শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ও মেধার বিকাশ ঘটাতে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দ্যেগ নেন এই শিক্ষাপ্রীয় ক্ষুদ্র চা বিক্রেতা রফিক। শুধু তাই নয়, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা চা বিক্রেতা রফিক বিভিন্ন সাহায্যকারী সংস্থা, ও উচ্চবৃত্ত লোকজনের কাছে থেকে তার প্রতিষ্ঠিত সোনামণি পাঠশালা’র শিক্ষার্থীদের জন্য পোষাক ও স্কুল ব্যাগের ব্যবস্থাও করে দেন। বিদ্যালয়টি এখন অস্থায়ী জায়গায় রয়েছে। চা বিক্রেতা রফিকের এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা শুনে স্কুলের উন্নয়নের জন্য স্বেচ্ছায় এগিয়ে অাসেন প্রয়াত জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ অাসনের সাংসদ অাব্দুল ওদুদ সহ অারও অনেকে। অার তাদেরই অনুদানের টাকায় তৈরী করা হয় সোনামণি পাঠশালার ৬টি শ্রেণীকক্ষ, একটি অফিসকক্ষ ও বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় অাসবাবপত্র। এদিকে সোনামণি পাঠশালা প্রতিষ্ঠাতা চা বিক্রেতা রফিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অামার এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করায় খুশি হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য মোঃ অাব্দুল হাকিম বিদ্যালয় পরিদর্শন করে জেলা পরিষদ কর্তৃক অার্থিক অনুদানের প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়াও অামার নিজ গ্রাম ঠাকুরপালশার স্থানীয় সোহরাব মন্ডল, অাব্দুর রহিম, ইসমাইল অালীসহ অনেকে অর্থ দিয়ে না পারলেও ঘর নির্মাণ ও বিভিন্ন কাজে স্বেচ্ছাশ্রম দিয়েছেন। অামি তাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। সোনামণি পাঠশালার সহকারী শিক্ষক লাইলা অানসারী জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শ্রেণীকক্ষের সমস্যা নেই তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো গ্রীষ্মকালীন গরম। বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ না দিতে পারায় শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট করে ক্লাস করতে হচ্ছে। এদিকে সোনামণি পাঠশালার প্রধান শিক্ষক মোঃ মুন্না পারভেজ জানান, এই স্কুলটিতে ৬জন শিক্ষকসহ মোট ৮জন স্টাফ রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশ ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অায়োজন থেকে শুরু করে সকল ধরনের কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা রফিক ভাই ও তার সহধর্মীনীসহ অামন্ত্রীত অতিথিদের সাধ্যমত অাপ্যায়ন করা হয়। প্রধান শিক্ষক অারো বলেন অামরা রফিক ভাইকে যথেষ্ঠ শ্রদ্ধা করি এবং অামার সোনামণি পাঠশালার সকল শিক্ষার্থীও শ্রদ্ধা করেন। এবার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, তিনি বিদ্যালয়ের স্থায়ী ঠিকানার জন্য পাশের একটি খাস জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অামরা সেই অপেক্ষায় অাছি, সোনামণি পাঠশালার শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব স্থানে শিক্ষা নিতে পারবে। এই সোনামণি পাঠশালার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিষ্ঠাতা রফিকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, অামি যখন বিদ্যালয়টি তৈরী করি তখন চিন্তা করতাম কিভাবে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত নিয়ে যাব? কিন্তু সকলের সহযোগীতায় অামি সক্ষম হয়েছি। প্রত্যেক মাসে প্রায় ১৪ হাজার টাকা খরচ স্কুলটিতে। অার এখন একটাই স্বপ্ন, যেন স্কুলটা তার নিজস্ব জায়গার উপর একটা ঠিকানা খুজে পায়। অার এই জন্য অামি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগীতা কামনা করছি।

loading...
error: Content is protected !!