loading...

গৌরীপুরে ছোট রাস্তার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ 

0

মোঃ আবদুল কাদির :
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে চলাচলের ছোট একটি রাস্তার  জন্য ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছে এলাকার প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ ।

গত সোমবার(১৪ ই মে) সকালে মহাসড়কের কলতাপাড়া বাজারে এ বিক্ষোভ হয়। এ সময় মহাসড়কের দু’পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। অবরোধের সংবাদ  পেয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল হক সরকার সড়ক নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করেন।

জানা যায়, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে কলতাপাড়া বাজারে ১৮৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় “কলতাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়”। স্বাধীনতার পর থেকে উপজেলার, চূড়ালি, মূলাকান্দি,ও শালীহরসহ ৩ টি গ্রামের বাসিন্দারা ওই বিদ্যালয়ের পূর্বপাশের কাঁচা রাস্তা দিয়ে কলতাপাড়া বাজার হয়ে উপজেলা সদরসহ ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জসহ আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করতো।
তবে ২০১৫ সালে তৎকালীন সাংসদ মজিবুর রহমান ফকিরের ভাতিজা শাহ রফিকুল ইসলাম দিপু বিদ্যালয়ের সামনের জায়গা দখল করে মার্কেট ও গেইট নির্মাণ করলে ওই রাস্তাটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে গ্রামের বাসিন্দারা বিদ্যালয়ের মাঠের ভেতর দিয়ে চলাচল শুরু করে।

তবে চলতি মাসে সরকারিভাবে বিদ্যালয়টির সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করার পর গ্রামবাসীর চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন তারা। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে, সোমবার সকালে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয় গ্রামবাসী।

এরপর তারা চলাচলের রাস্তার দাবিতে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে সড়কের দুপাশে শতশত যানবাহন আটকা পড়ে। সংবাদ  পেয়ে ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল হক সরকার ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রামবাসীকে শান্ত করেন।
এ বিষয়ে ওই এলাকার  প্রবীণ ব্যক্তি  মোঃ নবী হোসেন (৫৫) পিতামৃত : মজিত ফকির বলেন, “জন্মের পর থেকে আমরা এই ইসকুলের রাস্তা দিয়া চলাচল করতাছি আরো  ৩ টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে,এলাকার  আবদুল কাদির (৩৪) পিতা,বাদল চন্দ তিনি বলেন আমি ২১ বছর ধরে আমি এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতাছি।

এলাকাবাসী “দুর্নীতি বার্তা”কে আরো যানায়  মার্কেট নির্মাণ করার সময় আওয়ামী লীগ নেতা দিপু ইসকুলের পূর্বদিকের রাস্তাডা বন্ধ কইরা দিছে। অহন ইসকুলের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ হইলে তিন গেরামের শত শত মানুষের চলাচলের বন্ধ হইয়া যাইব।”
এদিকে, বিদ্যালয়ের সামনের জায়গা দখল করে মার্কেট ও গেইট নির্মাণকারী রফিকুল ইসলাম দিপু বলেন, মার্কেট নির্মাণের সময় স্কুলের পূর্বপাশের রাস্তা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকারি গাছ থাকার কারণে তা সম্ভব হয়নি। একটি ফলের দোকানের কারণে ওই রাস্তাটা বন্ধ আছে। গ্রামবাসী চাইলেই ওই ফলের দোকান সরিয়ে দেয়া হবে।

স্কুলের  প্রধান শিক্ষক মুর্শেদা খাতুন  “দুর্নীতি বার্তা “কে বলেন রাস্তার জন্য গ্রামবাসী সীমানা প্রাচীরের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু গ্রামের আসল রাস্তাটা স্কুলের পূর্বপাশে ভবনের পেছন দিয়ে। বিষয়টি সমাধানে জন্য আগামী বুধবার গ্রামবাসীকে নিয়ে বসা হবে।
ডৌহখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল হক সরকার বলেন, স্কুলের সীমানা প্রাচীরের নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে গ্রামবাসীর চলাচলের জন্য রাস্তা বের করা হবে।

loading...
error: Content is protected !!