loading...

ঝিনাইগাতীতে বৈধ প্রধান শিক্ষকের এমপিও’র দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

0

মুহাম্মদ আবু হেলাল, ঝিনাইগাতী ঃ

১৯৭৭সালে প্রতিষ্ঠিত শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নারী শিক্ষার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাজি অছি আমরুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বরখাস্তকৃত শিক্ষকের এমপিও বাতিল করে বৈধ শিক্ষকের এমপি ভূক্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক উম্মে কুলসুম। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, বর্তমান প্রধান শিক্ষক উম্মে কুলসুম।

এসময় অন্যন্যেদের মধ্যে উপস্থিত থেকে জাহাঙ্গীর সেলিমের এমপিও বাতিল করে, বৈধ শিক্ষকের এমপিও ভূক্তিকরণ এবং ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম বজায় রাখার দাবিতে বক্তব্য রাখেন, অত্র বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ আবুল হোসেন সরকার, দাতা সদস্য ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম মক্কু, শিক্ষক প্রতিনিধি দেলোয়ার হোসেন ও অভিভাবক সদস্য মোন্তাজ আলী প্রমূখ। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক উম্মে কুলসুম জানান, “প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক ওসমান গনি ২০১৩সালে অবসরে যাওয়ার পর থেকে একটি কুচক্রীমহল নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। সনামধন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংশ করার ভিশন নিয়ে নানান অপকর্মের হোতা নামের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর সেলিম প্রধান শিক্ষক হওয়ার প্রতিযোগীতায় মাঠে নামেন। শুরু হয় মামলা-মোকদ্দমা।

জাহাঙ্গীর সেলিমের নানা অপকর্ম ও জালিয়াতির ঘটনা সন্দেহাতীত ভাবে প্রমানিত হওয়ায় শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি মামলা করার জন্য জেলা শিক্ষা অফিসার শেরপুরকে নির্দেশ প্রদান করেন সেই সাথে অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর সেলিমের এমপিও স্থায়ী ভাবে কর্তনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রনালয়কে সুপারিশ করেন। শিক্ষা অধিদপ্তরের লিখিত সুপারিশ পাওয়া সত্বেও শিক্ষা মন্ত্রনালয় জাহাঙ্গীর সেলিমের এমপিও বাতিল না করে শুধুমাত্র বেতন ভাতার সরকারি অংশ স্থগিতের নির্দেশনা প্রদান করেন।

এছাড়া জেলা শিক্ষা অফিসার, শেরপুরও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেন নাই। শিক্ষা মন্ত্রনালয় এ নির্দেশনা জারির ফলে বৈধ ভাবে নিয়োগ পাওয়া প্রধান শিক্ষক উম্মে কুলসুমকে এমপিও’র আওতায় আনতে পারছেনা শিক্ষা অধিদপ্তর। তিনি আরও জানান, জাহাঙ্গীর সেলিম ২০১৩সালের ২৭জানুয়ারী থেকে ২০১৪ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত পুরো সময় অদৃশ্য কারণে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন এবং এ সময়ের মধ্যে জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি প্রধান শিক্ষক পদে অধিষ্ঠিত হন। তদবিরের মাধ্যমে ২০১৩সালে নভেম্বর মাসে তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে তার নামে এমপিওভূক্তও করান।

জালিয়াতি করে প্রধান শিক্ষক বনে যাওয়া ওই শিক্ষকের নিয়োগ চ্যালেঞ্জ করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা দায়ের করেন। বিভিন্ন ভাবে প্রশাসনিক তদন্তে জালিয়াতির ঘটনাটি প্রমাণিত হয়। উক্ত বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক উম্মে কুলসুমকে গত ১৪জানুয়ারী ২০১৩সাল থেকে আদালতের নির্দেশে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

পরবর্তীতে জেলা শিক্ষা অফিসার শেরপুরের বিজ্ঞ জিপি এর আইনগত মতামতের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ছাড়পত্র প্রদান করলে পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি, ডিজি প্রতিনিধির মনোনয়ন, নিয়োগ কমিটি গঠন ও নিয়োগ পরীক্ষা সহ যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিয়োগ পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত হওয়ায় নিয়োগ কমিটির সুপারিশক্রমে গত ১৮অক্টোবর/১৫ইং তারিখে প্রধান শিক্ষক পদে উম্মে কুলসুমকে নিয়োগ প্রদান করেন। উম্মে কুলসুম গত ২৮অক্টোবর/১৫ইং তারিখে উক্ত পদে যোগদান করে সুনামের সাথে পাবলিক পরীক্ষার সচিবের দ্বায়িত্বসহ অন্যান্য সকল দ্বায়িত্ব পালন করে প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত বিদ্যালয়কে আলোর মুখ দেখাচ্ছেন।

অপরদিকে দীর্ঘ প্রায় ২বছর যাবৎ বিনানুমতিতে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে কর্তৃপক্ষ ১৯জানুয়ারী/১৫ইং সালে শিক্ষক জাহাঙ্গীর সেলিমকে স্থায়ী ভাবে বরখাস্ত করেন ম্যানেজিং কমিটি। যাহা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোডের্র আপিল এন্ড আরবিট্রেশন কমিটি তাকে ১৪৫/(ক)/শের/৩৩২৫ নং স্বারক মূলে ১৭নভেম্বর/১৫ইং তারিখে চুড়ান্ত বরখাস্তের অনুমোদন প্রদান করেন। এত্দসত্বেও শিক্ষা মন্ত্রনালয় ২১এপ্রিল/১৬ইং তারিখে জাহাঙ্গীর সেলিমের এমপিও বাতিল না করে ছাড়করণের নির্দেশ প্রদান করেন।

বরখাস্তকৃত শিক্ষক জাহাঙ্গীর সেলিমের জালিয়াতী ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের গাফিলতির কারণে আটকে আছে বৈধ ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উম্মে কুলসুমের এমপিও। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর সেলিমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তফা কামালের যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে অবহিত আছেন বলে জানান। আনিত বিষয়ে প্রধান শিক্ষক উম্মে কুলসুমসহ ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

loading...