loading...

চোরের গডমাদার ঝর্ণার ফাঁদে এবার পুলিশ

0

ওমর ফারুক সুমন, হালুয়াঘাটঃ

হালুয়াঘাটের গরু চোরাই চক্রের গডমাদার ঝর্ণার ফাঁদে এবার জড়িয়েছেন পুলিশ। তার সাথে রয়েছে একজন ইউপি চেয়ারম্যান। সুত্রে জানা যায়, হালুয়াঘাট থানার ওসি কামরুল ইসলাম মিঞা ও চেয়ারম্যান অয়ারিছ উদ্দিন সুমনসহ ৬ জনকে আসামী মামলা দায়ের করেছেন সেই আলোচিত ঝর্না। অভিযোগ ৫ লক্ষ টাকা চাঁদাদাবী ও থানা হাজতে উলঙ্গ করে শারীরিক নির্যাতনের। ২৭ ডিসেম্বর বুধবার ময়মনসিংহের ৫নং আমলী আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে বিচারক হাফিজ আল আসাদ অভিযোগটি আমলে নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারকে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

যেই ঘটনার সুত্রপাত ঘটেছিলো আজ থেকে প্রায় পাঁচ মাস পূর্বে। ঘটনার সুত্র মতে, গত ৯ আগষ্ট রাতে উপজেলার চকমোকামিয়া গ্রামের আইনল হক এবং তার চাচা হাতেম আলীর একটি ষাঁড় ও একটি বকনা গরু নিজ বাড়ি থেকে চুরি হয়। চুরি হওয়া গরুগুলি খোজতে গিয়ে আইনল হক শেরপুর জেলার নকলা থানা এলাকা থেকে হালুয়াঘাট উপজেলার করুয়াপাড়া গ্রামের কামরুজ্জামানকে তার চুরি যাওয়া গরুটিসহ আটক করেন। আটককৃত কামরুজ্জামান সেদিন পুলিশকে জানান, গরুটি ঝর্ণা তাকে বিক্রি করতে দিয়েছেন। সেখান থেকেই মূলত চুরের আলামতের প্রথম সুত্রপাত ঘটে।

এরপর একপর্যায়ে ঝর্ণা উক্ত গরুটিকে নিজের গরু বলে দাবী করেন। শুধু তাই নয়, গত ১২ আগষ্ট বিকালে হাতেম নামের জনৈক ব্যাক্তি তার চুরি যাওয়া গরুটি ঝর্ণার বাড়ির গোয়াল ঘরে দেখতে পায় বলে জানান। পরে ইউপি চেয়ারম্যান ওয়ারিছ উদ্দিন সুমনের সহযোগিতায় স্থানীয় ব্যক্তিসহ চারজন চৌকিদার গরুটিকে ঝর্ণার বারির গোয়াল ঘর থেকে উদ্বার করেন । পরবর্তিত্বে চুরি যাওয়া গরুটি ঝর্ণার বাড়ি থেকে উদ্বার হওয়ার কারণে হাতেম আলী বাদী হয়ে উপজেলার পূর্ব পাবিয়াজুড়ি গ্রামের আজগর আলীর স্ত্রী ঝর্ণাসহ চোরাই সিন্ডিকেট চক্রের ১১ জন সদস্যের নামে হালুয়াঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন।

অতঃপর হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম মিঞা সঙ্গীয়ফোর্স নিয়ে গত ১২ আগষ্ট শনিবার সন্ধায় ঝর্নার নিজ বাড়ি থেকে অভিযান চালিয়ে আরও ৫ টি চোরাই গরুসহ তাকে আটক করেন। ঝর্ণাসহ চোরাই সিন্ডিকেট চক্রের অন্যান্য সদস্যরা হলেন, হালুয়াঘাট্ উপজেলার ধারা ইউনিয়নের করুয়াপাড়া গ্রামের কামরুজ্জামান (৩৭),ধুরাইল ইউনিয়নের ধরাবন্নি গ্রামের কফিল উদ্দিন(৪০), আয়েশা বেগম (৩৫), হাকিম (৫৫), ও ফুলপুর উপজেলার ধনারভিটা গ্রামের সোহেল (২৫), জহুরুল (৩০), রাকিব (২৩), রোবেল (২৭), নজরুল (৪৫), জাকারিয়া (২৫)।

অতপর ঝর্ণার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত তিনটি গরুচুরি মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ছানোয়ার হোসেন,এসআই দেলোয়ার হোসেন ও এসআই প্রদীপ কুমার রায় আদালতে রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২১ আগষ্ট ময়মনসিংহ বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্টেট্র ৫নং আমলী আদালত উভয়কে এক দিনের রিমান্ড মঞ্চুর করেন। ২৩ আগষ্ট অপরাহ্নে হালুয়াঘাট থানা পুলিশ ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসেন।

শুধু তাই নয় ঝর্ণা সেদিন জানিয়েছিলেন যে, গরু দুটি পূর্বে নিজের মালিকানা দাবী করলেও প্রকৃত পক্ষে গরুগুলির মালিক সে নয়। আরও বলেছিলেন ধরাবন্নি গ্রামের কফিল উদ্দিন ও আয়শা বেগমের গোয়াল ঘরে চুরি করে আনা আরো একাদিক গরু রয়েছে। পরে হালুয়াঘাট থানা পুলিশ ঝর্নাকে সাথে নিয়ে ১২ আগষ্ট রাতভর অভিযান চালিয়ে কফিল উদ্দিনের গোয়াল ঘর থেকে আরোও তিনটি চোরাই গরু উদ্ধার করেন।

এ ঘটনা সমুহ সংক্রান্তে সংশ্লিষ্ট গরুর মালিক গণ বাদী হয়ে পৃথক পৃথক ভাবে হালুয়াঘাট থানায় ১২ ও ১৪ আগষ্ট তারিখে যথাক্রমে মামলা নং ৮,৯,১০, ধারা ৪৫৭/৩৮০/৪১১ দায়ের করেন। এ ছাড়্ওা ১৬ আগষ্ট ফুলপুর উপজেলার সিংহেশর ইউনিয়নের পুরাপুটিয়া গ্রামের আবছর আলীর পুত্র রফিক বাদী হয়ে ফুলপুর থানায় ঝর্ণাসহ ১৩ জনকে বিবাদী করে আরো একটি মামলা দায়ের করেন। শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ১২ আগষ্ট রাতে আটক দেখান ঝর্ণাকে।

মামলা হয় ঝর্ণারসহ আরও ১১ জনের বিরুদ্ধে। এ চোরাই চক্রের বাকী সদস্যরা হলেন ধুরাইল ইউনিয়নের ধরাবন্নি গ্রামের কফিল উদ্দিন(৪০), আয়েশা বেগম (৩৫), হাকিম (৫৫), ফুলপুর উপজেলার ধনারভিটা গ্রামের সোহেল (২৫), জহুরুল (৩০), রাকিব (২৩), রোবেল (২৭), নজরুল (৪৫), জাকারিয়া (২৫) ও হালুয়াঘাট্ করুয়াপাড়া গ্রামের কামরুজ্জামান (৩৭)।১৩ আগষ্ট রবিবার ঝর্ণাকে জেলহাজতে প্রেরণ করে। এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ওয়ারেছ উদ্দিন সুমন তার বিরোদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করেছেন।

একটি কুচক্রীমহল রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবে হেয় পতিপন্ন করার জন্য মামলাটি দায়ের করেছেন বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, থানা হেফাজতে আটক ঝর্ণাকে কোন প্রকারের মারধর করেননি । তার বিরোদ্ধে ষড়যন্ত্র মূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান।মামলার বিষয়ে ময়মনসিংহ পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম পিপিএম,বিপিএম বলেন, আদালত মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে ঐ মহিলা বা ওসির যদি কোন ফল্ট থাকে তা বেড়িয়ে আসবে। মহিলা মামলাটিতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকতে পারেন। যা তদন্ত স্বাপেক্ষে বলা যেতে পারে।

loading...