loading...

আটঘরিয়া পৌরসভায় সাত কর্মচারী নিয়োগে দূর্নীতির অভিযোগ ॥ তদন্ত কমিটি গঠন

0

পাবনা প্রতিনিধ :

পাবনার আটঘরিয়া পৌরসভায় বিধি বহিভূতভাবে ৭জন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশিত ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তরিঘরি করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হযেছে।

এব্যাপারে পাবনা জেলা প্রশাসন আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগে বলা হযেছে, প্রার্থীদের প্রাকচরিত্রের পুলিশ প্রত্যয়ন বা প্রতিবেদন ও স্বাস্থ্য সনদ গ্রহন এবং মুক্তিযোদ্ধাসহ অন্যান্য কোঠা অনুসরণ করা হয়নি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্ঠি হয়েছে।

অভিযোগের চায়ালিপি হতে জানা গেছে, আটঘরিয়া পৌরসভায় ২০১৪ সনে ৭জন কর্মচারী নিয়োগের ছাড়পত্র মোতাবেক বর্তমান মেয়র শহিদুল ইসলাম রতন স্থানীয় সরকার পৌরসভা আইন ২০০৯ ইং এর ধারা ৬৪ অনুয়ায়ী সংস্থাপন ও অর্থ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির মতামত ও সুপারিশ গ্রহন না করে, পৌরসভার কর্মচারী চাকুরি বিধিমালা এবং আইন অনুয়ায়ী নিয়োগের পূর্বে মুক্তিযোদ্ধাসহ অন্যান্য কোঠা অনুসরণ না করে এবং চাকুরী বিধি ১৯৯২ এর ধারা ৬ অনুয়ায়ী নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রাকচরিত্রের পুলিশ প্রত্যয়ন বা প্রতিবেদন ও স্বাস্থ্য সনদ গ্রহন না করে তার নিজ পছন্দের লোককের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে আরো বলা হয়, স্বজনপ্রীতি ও উৎকোচ গ্রহন করে সাবেক মেয়রের আমলে মাষ্টার রোলে নিয়োজিত শাহীন, কালাম, নিজাম, রফিকুল, মিঠন, রাজ্জাকের মত প্রার্থীদেরকে নিয়োগ না দিয়ে নৈশ্য প্রহরী ও গার্বেজ ট্রাক চালক পদে বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক সনদ ও ভোটার আইডি কার্ড গোপন করে নৈশ্য প্রহরী পদে মো: আমিরুল ইসলাম ও গার্বেজ ট্রাক চালক পদে শহিদুল ইসলামকে নিয়োগ হয়েছে।
অন্য ৫টি পদে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পৌর সভার নিজস্ব কর্মকর্তা ও আটঘরিয়া পাইলট হাই স্কুলের শিক্ষক মো: হেলাল উদ্দিনের দ্বারা প্রশ্ন তৈরি করে আগেই উত্তর বলে দিয়ে স্বজনপ্রীতিরন মাধ্যমে নিজের বোনের ছেলেকে লাইসেন্স পরিদর্শক পদে এবং বর্তমান মেয়র শহিদুল ইসলাম রতনের মোননীত প্রার্থী যাদের নিকট হতে কয়েক লক্ষ টাকা করে উৎকোচ গ্রহনের মাধ্যমে কর আদায়কারী, কার্যসহকারী, নি¤œমান সহকারী ও টিকাদানকারী পদে কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশিত ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তরিঘরি করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার পৌরসভা কর্মচারী নিয়োগ নীতিমালায় স্বারক নং ৪৬,০৬৩,০৩১,০৮,০০,০০২-২০১১/১১৭৫ তারিখ ০৩/১০/২০১১ ইং এবং স্বারক নং ৪৬,০৬৩,০৩১,০৮,০০,০০৯-২০১১/৭৪৫ তারিখ ২৬/০৬/২০১১ইং মূলে নিয়োগ বাতিল বলে গ্রহন হবে এবং কোন মাষ্টার রোল কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া যাবে না।  ফলে আটঘরিয়া পৌরসভার ৭ জন কর্মচারী নিয়োগ আদেশ নং আপৌঃ/২০১৭/৩০৬ তারিখ-১৮/০৭/২০১৭ ইং বাতিল করার আবেদন করা হয়।

এ ব্যাপারে আটঘরিয়া পৌরসভার মেয়র শহিদুল ইসলাম রতনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভাব হয়নি। তবে আটঘরিয়া পৌরসভার সচিব ও নিয়োগ কমিটির সদস্য মো: আবুল মুনসুর বলেন, ৭জন কর্মচারী নিয়োগে কোন অনিয়ম হয়নি, আবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে নিয়োগ কমিটি বিধি মোতাবেক নিয়োগ দিয়েছে। আটঘরিয়া পৌরসভার বর্তমান কাউন্সিলর ও নিয়োগ কমিটির সদস্য আক্তারুজ্জামান রেজা বলেন, নিয়োগ সঠিকভাবে হয়েছে, রাজনৈতিক কারণে প্রতিপক্ষের লোকজন অপপ্রচার করছে।

এ ব্যাপারে আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকরাম আলী বলেন, তদন্ত চলছে, এই মহুর্তে বিস্তারিত বলা সম্ভাব নয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে।

 

loading...
%d bloggers like this: