loading...

ঈশ্বরগঞ্জে কথিত পীরের কাণ্ডে উত্তেজনা, অনুষ্ঠান পণ্ড

0

আব্দুল আউয়াল:

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে কথিত এক পীরের কাণ্ডে উত্তেজনা দেখা দিলে আয়োজিত অনুষ্ঠান পণ্ড করে দিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের শিবপুর বাজারসংলগ্ন এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, প্রায় ৪ বছর ধরে জহির শাহ (৩৬) নামের এক ব্যক্তি পীর সেজে উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে মোতালেবের বাড়িতে আস্তানা করেন। তার নাম জহিরুল ইসলাম। পিতা শফিক মিয়া। বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার দেবনগর গ্রামে। থাকেন নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলায় তার পীর আঃ খালেক শাহের মাজারে। ৭-৮ বছর বয়েস থেকেই তিনি ওই পীরের কাছে থাকেন। পীর মারা যাওয়ার পরও তিনি সেখানে আছেন। এখনো বিয়ে করেননি। বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় তার ভক্তদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ান।

মঙ্গলবার ঈশ্বরগঞ্জে বড়হিত ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে বাৎসরিক বৈঠকি গানের আসর হওয়ার কথা ছিল। বিষয়টি নিয়ে এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পীরের অনুষ্ঠান পণ্ড করে দেয়। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান কথিত পীর।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কথিত ওই পীর যুবক-যুবতীদের নিয়ে আসর বসান। সেখানে গানের তালে তালে সবাই এক সাথে নাচ-গান করে। পীরের শরীর ধোয়া পানি যুবতীদের পান করতে দেন। ওই পানি পানে অবিবাহিত যুবতীদের দ্রুত বিয়ে হয়ে যাবে, যাদের সন্তান নেই তাদের নাকি সন্তান হবে।

এলাকার সিদ্দিকুর রহমান জানান, তিন দিন আগে পীর এলাকায় এসেছেন। তিন দিন ধরে চলছে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি। যুবতী মেয়েরা তার খেদমত করছেন। অনুষ্ঠান যাতে সুন্দর করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত যুবতীদের বাছাই করে রাখা হয়েছিল। পাশেই মসজিদ। এমন একটি স্থানে রাতভর গান হবে যুবক-যুবতীদের নাচ হবে তা মানতে পারেননি স্থানীয় মুসল্লিরা। পরে এলাকাবাসীর উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ করা হয়। পুলিশ এসে অনুষ্ঠান পণ্ড করে দেয়।

বিষয়টি নিয়ে পীর জহির শাহের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান- পানি পড়া দেওয়া তার আসল কাজ না। অনেকেই নিতে আসেন বলে তাদেরকে তিনি দেন। এতে কাজ হয় কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন- ‘কাজ হয়। কাজ করেন আল্লাহ আর তিনি হলেন উছিলা’।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার এস আই সজীব ঘোষ জানান, এলাকাটিতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে এমন আশঙ্কায় পীরের অনুষ্ঠানটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিতু মরিয়ম জানান, ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশকে বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সুত্র: নয়া দিগন্ত

loading...
error: Content is protected !!