loading...

চাঁপানবাবগঞ্জে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানা পুলিশের মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদন

0

লেখক-ফারুক আহমেদ চৌধুরী,(সভাপতি)/স্বাধীন প্রেসক্লাব চাঁপানবাবগঞ্জ :

সাজানো এক চাঁদাবাজি মামলায় দৈনিক উত্তরা প্রতিদিন ও বিডি২৪ লাইভ. কমের চাঁপানবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি রিপন আলী রকি, দৈনিক চাঁপাই দর্পনের স্টাফ রিপোর্টার ইমরান আলী ,সাংবাদিক রকি’র বাবা ও ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ। বিষয়টি সাংবাদিকের পক্ষ থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার কে জানানো হয়। গতকাল সোমবার তদন্ত অফিসার শিবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক শাহ আলম কে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা কে পুলিস লাইনে ক্লোজ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুল ইসলাম। তবে এ ঘটনায়, নাকি অন্য কোনো কারণে তাকে ক্লোজ করা হয়েছে সেটা জানেননা তিনি ।চলতি বছরের ১৬ই আগস্ট শিবগঞ্জ উপজেলার সেভেন স্টার ইট ভাটার মালিক ও আমদানী রপ্তানিকারক  আবু তালেব বাদী হয়ে সাংবাদিক রিপন আলী রকি, ইমরান আলী,  রকি’র বাবা ও তার ছোট ভাইকে বিবাদী করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চাঁদাদাবীর অভিযোগে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। জানা যায়, উপজেলায় গড়ে ওঠা অবৈধ ইট ভাটার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক রকি ও তার ছোট ভাইকে তুলে নিয়ে গিয়ে শারিরিক নির্যাতন করে আবু তালেবের সহযোগীরা ।

এ ঘটনায় শিবগঞ্জ উপজেলা ইট ভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আবু তালেব কে প্রধান আসামী করে মামলা করা হয়। এরই জেরে সাংবাদিক ইমরান, রকি ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়ের করে আবু তালেব।আদালত সূত্রে জানা যায়, বাদী আবু তালেব এর জবানবন্দী ও তার নিযুক্ত আইনজীবির বক্তব্য  শুনে আদালত মামলাটি নথিভুক্ত করেন। এ সময় আমলী আদালত “খ” অঞ্চলের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শহীদুল ইসলাম শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ কে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। মামলা নং সি. আর ২৮১/২০১৭ ( শিবগঞ্জ) ।
৩০/ ০৮/২০১৭ তারিখ অত্র আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাক্ষরিত আদেশে উল্ল্যেখ করেন –  নালিশকারী মোঃ আবু তালেব এর শপথ পূর্বক জবানবন্দী ১৮৯৮ সালের ফৌজদারী  কার্যবিধির ২০০ ধারা মতে গ্রগন করা হল। মামলাটির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা নিরুপনার্থে তদন্ত প্রয়োজন।  এমতাবস্থায় নালিশকারীর অভিযোগটির বিষয়ে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অফিসার ইনচার্জ,  শিবগঞ্জ থানা,  চাঁপানবাবগঞ্জ- কে নির্দেশ প্রদান করা হল।এটি একটি মিথ্যা ও সাজানো মামলা জেনেও শিবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক শাহ আলম কোন তদন্ত ছাড়াই মিথ্যা ভিত্তিহীন ভূয়া তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে প্রেরণ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট থানার ওসি হাবিবুল ইসলাম বলছেন, এইটা আসলে মিসটেক হয়েগেছে, এই ভুলে তিনি নিজেই লজ্জিত।   ওসিদের সবকিছু দেখার সময় থাকেনা তাই প্রতিবেদনটি না দেখেই সীল সাক্ষর করেছেন তিনি। সাংবাদিক ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলায় পুলিশের দায়িত্বহীন প্রতিবেদনে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় গনমাধ্যম কর্মীরা। এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক -সুজন এর চাঁপানবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ও জেলা স্বাধীন প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য এ্যাড. সৈয়দ শাহজামাল বলেন, সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন মুক্ত সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করবে। একজন পেশাদার সাংবাদিক ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে তা খুবই দুঃজনক। এরকম দায়িত্বহীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রশ্নবিদ্ধ করবে পুরো পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে।

এরুপ অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের কারণে পুলিশের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে জনগণ। এ ঘটনায় ভুক্তভুগি সাংবাদিক রিপন আলী রকি জানান, চোরাকারবারি আবু তালেবের কালো টাকার কাছে থানা পুলিশ বিক্রি হয়েগেছে। কালো টাকার প্রভাবেই জেনে শুনে একটি মিথ্যা মামলায় আমার বিরুদ্ধে ভিক্তিহীন তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে থানা পুলিশ । অবিলম্বে পুলিশ সুপার, ডিআইজি ও সর্বশেষ আইজি বরাবর তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় অভিযোগ করা হবে। শিবগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ হাবিবুল ইসলাম জানান, এইটা আসলে মিসটেক হয়েগেছে। প্রতিবেনটি কখোন এসেছে আর কখোন গেছে আমি বুঝতে পারিনি। যদিও ( ফরওয়ার্ডিং) অগ্রগামীতে আমার সীল সাক্ষর, আইনত বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ঘটনাটি নিয়ে আমি নিজেই লজ্জিত। ওসি বলেন, সাংবাদিক রকি আমার ব্যাক্তিগতভাবে পছন্দের ছেলে। যাই হোক যা কিছু হবে পুলিশের মাধ্যেই তো হবে এ বিষয়ে আগামীতে আমি তাকে সাহায্য করবো বলে জানান তিনি।

loading...