loading...

অপূর্ব সৌন্দর্যের পিকনিক স্পট-পানিহাটা

0

ওমর ফারুক সুমন, হালুয়াঘাটঃ
ময়মনসিংহ শহর থেকে ৬০ কিলোমিটার আর হালুয়াঘাট-নালিতাবাড়ি থেকে ১৫ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত মনোমুগ্ধকর পিকনিক স্পট-পানিহাতা। ছোট বড় পাহাড় যাকে বলে গারো-পাহাড়। চারিদিকে হাজারো প্রজাতির সবুজ বৃক্ষরাজি, পাখিদের কোলাহল, ঝর্ণার কলতান। কয়েকশত ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পাহাড়ে উঠার জন্যে রয়েছে পায়ের তৈরি রাস্তা। পাহাড়ের চূড়ার উপর থেকে দাঁড়িয়ে চারদিকে তাকালে চোখে পড়ে সুউচ্চ সারি সারি পাহাড় আর নানা রকমের গাছপালা।

এসব পাহাড়ের নিচ দিয়ে আবার প্রবাহিত হচ্ছে স্বচ্ছ পানির ঝর্ণাধারা। কোথাও গহীন জঙ্গল আবার কোথাওবা ছোট-বড় পাহাড়। সীমানা পেরিয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের অনেক পাহাড়ও এখান থেকে দেখা যায়। ভারত সীমান্ত পাহাড়ের কোলে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য যে কারো মনকে আকৃষ্ট করবে। এখানে রয়েছে নুড়িপাথর আর আকাশমনি, বেলজিয়াম, ইউক্যালিপটাস, কড়ইসহ বিভিন্ন রকমের বৃক্ষরাজি, রয়েছে গারো পাহাড় বেষ্টিত ভারত ঘেঁষা নানা রকমের লতাগুল্ম আর বাহাড়ি গাছ-গাছড়ার সমাহার।

 

রয়েছে পাদ্রি মিশন, শিশুদের পড়ালেখার জন্যে রয়েছে মিশনারি পরিচালিত একটি সাধু আন্দ্রিয় প্রাথমিক বিদ্যালয়। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি গারো আদিবাসী শিশুদের জন্যে রয়েছে হোস্টেল সহ লেখাপড়া ও থাকা খাওয়ার সুবিধা। পাহাড়ের ভিতর বিশাল সমতল মাঠ। ঐ মাঠকে ঘিরে রয়েছে পাহাড়ি বনায়ন ও পাহাড়।
এছাড়া পাশেই ভোগাই নদী। এখান থেকে উপভোগ করা যায় ভারতের প্রাকৃতিক অপরূপ দৃশ্য। দেখা যাই ভারতীয় মানুষের কোলাহল। প্রতিবছর শীতের সময় দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যতকরা এসে প্রকৃতির সৌন্দর্য অবলোকন করেন।  উক্ত বিনোদন কেন্দ্রে গাড়ি পার্কিং এ বাড়তি কোন টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।

ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তর্গত শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায় অবস্থিত এই বিনোদন কেন্দ্রটির প্রতি রয়েছে অন্যরকম ভালোবাসা। বিস্তৃত এলাকা পানিহাটার পাশেই   চার-আলী, বারোমারি, ধোপাজুড়ি,তেলিখালি, ঝলঝলিয়া, কড়ইতলী গ্রামে গেলে খড়ের অথবা মাটির ঘরে বসবাসরত দরিদ্র গারো কোচদের চোখে পড়বে। শুধু গারো নয়, এখানে বাস করে বিভিন্ন ধর্মালম্বী লোক।  পর্যতকদের তারা বিশেষ যতœ নিয়ে থাকে। বিনোদন কেন্দ্রের প্রবেশদ্বারেই পূর্বেই রয়েছে প্রায় ১ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ। তারপর অবস্থিত এই পানিহাটা। ময়মনসিংহ থেকে বাসযোগে আসতে হবে  হালুয়াঘাট ।

সেখান থেকে ৪ কিলোমিটার উত্তরে গোবড়াকূড়া বাজার থকে সীমান্ত পথে ১০ কিলোমিটার প্রশ্চিমেই অবস্থিত এই সৌন্দর্যের পিকনিক স্পট পানিহাটা। এছাড়া শেরপুর হয়ে আসলে নালিতাবাড়ি উপজেলা থেকে ১৫ কিলোমিটার উত্তর দিকে চার-আলী বাজার থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার পুর্বেই পানিহাটা । কথা হয় ব্রান্মনবাড়িয়ার পৌরমেয়র এডভোকেট ফকরুল আলম আক্কাস, প্যানেল মেয়র আল-আমিন ও অধ্যাপক সত্যজিৎ দাসের সাথে। তারা এসেছেন পর্যতন কেন্দ্র ঘোরতে পানিহাটায়। তারা বলেন, গারো পাহাড়ের ভিতর এমন প্রাকৃতিক সোন্দর্যের অধিকারী  জায়গা থাকতে পারে তা তারা ভাবেনি। পানিহাটার পাশেই ইন্ডিয়ান সীমানায় বিশাল নদী, তার উপর বিশাল আকৃতির ইন্ডিয়ান ব্রীজ অনেক মুগ্ধ করেছে তাদের। এত কাছ থেকে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের সোন্দর্য দেখা যায় তা তাদের বিস্মিত করেছে। তারা বলেন সরকারী উদ্যোগে যদি এখানে পর্যতকদের বসা ও থাকার যতেষ্ঠ সুযোগ সৃষ্টি করা যায় তাহলে এটি একটি সম্ভাবনাময় পর্যতন শিল্পে রূপান্তরিত হওয়া শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার।

loading...
%d bloggers like this: